Wednesday, March 23, 2016

শেখেরটেক ১০ নাম্বার রোডের শেষ তিনতলায় থাকতাম, এরপর পিসিকালচার হাউজিং এর বিশাল বস্তি ছিল। ভোর হওয়ার আগে থেকে পানির কল ও রান্না ঘরের সিরিয়াল নিয়ে চলতো বাড়াবাড়ি রকমের গালাগালি ও মারামারি। মাথায় বালিশ চেপে জ্ঞান হারানোর মত গালি গুলো হজমের চেস্টা করতাম। মাঝে মাঝে ভাবতাম মধ্যবিত্ত ঘরে না জন্মিয়ে নিম্নবিত্ত ঘরে জন্মাইলে আজ আমারো তাদেরই মত গালাগালি করে অধিকার আদায় করতে হতো। নিজেকে ভাগ্যবান ভাবতাম হয়তো নিজের মনের অজান্তেই।
আমার বন্ধু শোভাকাংখীরা বলে, উন্নত প্রজাতির লেখক হতে। ভাষা সংযত করে শালীনতা বজায় রাখতে। ওদের নাকি আমার স্ট্যাটাস কমেন্টের ভাষা শুনে কানে বালিশ চেপে রাখতে হয়। এভাবে নষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন না করে শুদ্ধ পদ্ধতি হাতে নিতে বলে। আমার কাজই যখন সেই বড় বস্তি লেভেলের মানুষের সাথে, আমি নিজেই যখন উপরের তলা থেকে বস্তিতে নেমে এসেছি, সেখানে আমার ভাষাটা সাধু হলে শুধু শুনতে ভাল শোনালেও তেমন কাজে আসবে না। ভাল ভাষায় শুদ্ধ উচ্চারণে চার দিন আগেও মিটিং মিছিল করে নারী দিবস পালিত হয়ে গেলো, বছর ঘুরে আবার হবে। নারীর জাতির কপালে সেদিন পুরুষেরা ফুলচন্দন দিবে, আর বাকি ৩৬৪ দিন ঝাঁটারর বারি। তাই আমি পুরুষতন্ত্রের কপালে ৩৬৫ দিন রেখেছি ঝাঁটারর বারি।
আমি জানি, আমার পোষ্ট কোন রকমের নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলেও, পুরুষতন্ত্রের দেয়াল ভেংগে চুরমার করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
দ্র: উপর নিচ যেকোন তলাতেই নারী জন্ম দূর্ভাগ্যের।

No comments:

Post a Comment