Tuesday, July 5, 2016

যখন যাকেই ভালবেসেছি, সে আমার--
প্রেমিক হোক, বন্ধু হোক, হোক বা স্বজন
তাকে নিজের সব উজাড় করে দিয়েছি।
একটু ছিটে ফোটাও নিজের জন্য রাখিনি..
হোক তা সময়, হোক তা কর্ম, 
হোক না ঘণ্টার পর ঘণ্টা শ্রম--
হোক বা ভালবাসায় মিশে যাওয়ার আহ্বানে
-----উদ্দাম একাগ্রতা।
আমি তোমাদেরকে ভালবেসে জেনেছি--
মানুষ যে কতভাবে-----
ভালবাসা কেবল নিতেই জানে।
আর কতভাবে যে তারা মানুষকে
ভাল না বাসার খেলা খেলতে জানে,
ভাল না বাসতে চাওয়ার কত শত বায়না যে মানে!
তা তোমাদের সান্নিধ্য না পেলে বুঝতে পারতাম না।
-----একারণে কৃতজ্ঞতা।
সংকীর্ণতা অন্য সব ক্ষেত্রে মানালেও
ভালোবাসার ক্ষেত্রে কি মানায় বলো?
এজন্য তোমাদেরকে ছাড়তে হলো প্রিয়।
অল্প বিস্তর ভালবাসা আমাকে আপ্লুত করলেও
বেশি বেশি ভাল বাসতে বাসতে আমি ক্লান্ত!
এখন আমার শুধু--
আমার মত করে একটু ভালোবাসা দরকার।
-----এবার তবে নিরবতা।
কবিতা এক:
এরা দেবী, এরা লোভী, যত পূজা পায় ততো চাই আরও!
ইহাদের অতি লোভী মন
একজনে তৃপ্ত নয় এক পেয়ে সুখী নয় যাচে বহুজন।
কবিতা দুই:
বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা কিছু এল পাপ তাপ বেদনা অশ্রুবারি,
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর অর্ধেক তার নারী।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও পরিবারে বেড়ে উঠা অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন মানুষের কাছে এই কবিতা গুলো খুব পরিচিত। নারীর প্রতি বিদ্বেষ হিংসা ও ঘৃণা প্রকাশ করতে গিয়ে আমরা পূজারিণী কবিতার এই অংশটাকে কপি পেস্ট করি। আর যখনি সাম্যের গান গাইতে হয় আসে তখন নারী কবিতার উপরোক্ত অংশ কপি পেস্ট করি। এগুলো যে কতোটুকু পরস্পর বিরোধী বক্তব্য সেগুলো একবারও ভেবে দেখি না। প্রেম প্রকাশে আরও দুটো লাইন বহুল প্রচলিত, '“তাজমহলের পাথর দেখেছ, দেখেছ কি তার প্রাণ, ভিতরে তার মমতাজ নারী, বাহিরে শাহজাহান”। এখানে শাহজাহানের হেরেমখানা বা বহুবিবাহ, তার নিষ্ঠুরতার কথা আড়ালই থাকে। সবাই জানে শাহজাহান কত্ত মস্ত বড় প্রেমিকই না ছিলেন।
সাদা চোখে কবির কবিতা বিচার করতে আমরা যাই না। কারণ কবি এখানে বিখ্যাত, আমাদের জাতীয় কবি। কোন মানুষ যখন বিখ্যাত হয়ে যায় তখন তার সব রচনাই এভাবেই সমাদৃত হয়। যারা নিতে পারে না তারাই ব্যতিক্রম। তারাই মাথা খাটিয়ে ভাল মন্দ বিচার করে। কিন্তু উক্ত কবির জীবনী দিয়ে আমরা তাঁর কবিতা বিচার করি না। একারণে যারা কবির শোভাকাংখী তাদের ব্যক্তি-আক্রমণ মূলক কথা বলে বিরুদ্ধাচরণ করে বা কবির অনুরাগী ভক্ত পাঠকদের কবির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জায়গায় গিয়ে অশ্লীল, কুৎসিত, যুক্তিহীন ট্যাগ ছুঁড়ে দেই না। কিন্তু তসলিমা নাসরিনকে বিবেচনায় তাঁর সমর্থক বলেন আর তাঁর ভক্ত বলেন অথবা তাঁর অনুরাগী পাঠক বলেন, তসলিমার মত বিখ্যাত ব্যক্তির নাগাল না পেয়ে তাদের বাল ধরে টানাটানি করেন। ধরেই নিয়েছেন তসলিমা আপনাদের বাপের সম্পত্তি, তাকে নিয়ে আমরা যা ইচ্ছা তা বলব, করব, কে আসবে বলার তারও জাত উদ্ধার করবো এবং করছেনও। এখানে কি আরও স্পষ্ট করে বলতে হবে তসলিমা কে আপনি লিঙ্গ-দিয়ে বিচার করছেন নাকি তাঁর লেখা দিয়ে?
সব পুরুষের ভেতরেই নারী বিদ্বেষ বিদ্যমান, কারোর কম কারোর বেশি। আমাদের সমাজ আর ধর্ম এগুলোই শিক্ষা দেয়। যৌবনে প্রেম করা অবস্থায় সেটা কিছুটা কমে গেলেও বা তারা কম বেশি নারীবাদী হলেও পুরুষ নামক প্রতিষ্ঠিত মুল্লুকে আঘাত করে কোন কথা আসলেই তাদের আসল রূপটা বেরিয়ে আসে। নারী আর তার তার প্রতিনিয়ত ঘটা অন্যায় নিয়ে লেখালেখি করলেই আপনি যদি নিজেকে নারীবাদী ভেবে বসে থাকেন, সেটা যে ভুল তা আপনার নিজের চেয়ে ভাল আর অন্য কেউ জানে না। কারণ আপনার গড়া নারীবাদের বাইরে কোন নারী যাইতে চাইলেই তাকে লেখালেখির সীমা সহ সমস্ত ক্ষেত্রে, এমনকি// ''নারীবাদীতা'' শব্দেও নারীরা নারীকে জাস্ট পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে, তারা আসলে মানুষ হতে পারেনি// এসব বিচারটা আপনি করে ফেলছেন। আপনার মত চোখ কান হাত পা মুখ থাকার পরও নারীকে আপনি যে মানুষ না ভেবেই বিচারক সেজে বসে আছেন! কতোটা ভয়ঙ্কর আপনার চিন্তা! নিজেকে নারী জাতির জন্য খুব কল্যাণকর ভাবছেন? মূর্খরাও ভাল; আপনার মত অশিক্ষিতরাই কালে কালে নারীর পথ রোধ করে পুরুষতন্ত্র টিকিয়ে রেখেছে। আপনারা খুব ভাল করে জানেন কিভাবে না মেরেও নারী কে পঙ্গু করা যায়, আপনারা জানেন কিভাবে নারী পুরুষ সবাইকে কাঁচকলা খাইয়ে নিজের নামে নারীবাদের কৃতিত্ব লিখিয়ে নেওয়া যায় এবং কি কি করলে নারী মানুষ হওয়ার যোগ্যতা পায়।
মেয়ে--মাথা ব্যথা করছে, তোমার সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে। তোমার ছবি দাও দেখি।
ছেলে--তাড়াতাড়ি মোবাইলের গ্যালারী তে ঢুকে ছবি পাঠাতে গিয়ে দেখে ফেবু ম্যাসেঞ্জারসহ এপস কিছুই কাজ করতেছে না, শো করতেছে না। মোবাইল সেইফ মুডে চইলা গেছে, রিদমিকও নাই। মোবাইল রিস্টার্ট দিয়ে পুনরায় সব একটিভ করে ছবি পাঠায়ে দেখে মেয়ে আর নেটে নাই। এরপর আর কখনো মেয়েটা ছেলেটাকে আর এরকম কিছু লেখেনাই, কয়ও নাই।। ছেলে গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আবার কবে সেই দিন আসবে? এভাবে দিন যায়, মাস যায়, বছরও চলিয়া যায়...মেয়ে আসে কিন্তু....সেই দিন আসে না...শুভক্ষণ আর আসে না...সে আর ওভাবে স্বপনের ডাকে দেয় না!
কয়েক মিনিটের দেরি...একটি প্রেমের সমাপ্তি।
১৫ বছর বয়সে আমি একবার পিরিয়ড নিয়ে শবেবরাতের নামাজ পড়েছিলাম সারারাত। কারণ এই রাতে যা চাওয়া যায় তাই নাকি পাওয়া যায়, আর বছরে এটাই শেষ শবেবরাত। যদি এবছরেই মারা যাই তবে আর এইরাত আর কখনোই পাওয়া যাবে না। তাই বাসার কাউকে না বলেই নিজে নিজে চুপি চুপি আল্লার কাছে কেঁদে টেদে যা চাওয়ার চাইয়ে-ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলাম, আর কেউ না বুঝুক তিনি তো জানবেন কেন আমি এই মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছি।
মাঝখানে বছর দশেক কোন ধর্মীয় কাজকামের মধ্যে যাইনি, রোজা তো রাখিই-নি, কারণ ততোদিনে নাস্তিকতার বীজটা পুরো বুনে ফেলেছিলাম নিজের মধ্যে।
এখানের মুমিনদের কাছে আমার দেবী পরিচয় কিছুটা ফাঁস হওয়ায় মোটামুটি ভয়ে থাকতে হয় সবসময়। তাই এইবার ফেইক রোজা রাখতে হচ্ছে মাঝে মাঝে। খেয়ে দেয়ে নিচ্ছি ঠিকই, কিন্তু কেউ জিজ্ঞাস করলে মলিন মুখে বা খাবারের দিকে লোভী দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে বলি ''হ্যাঁ রোজা রেখেছি''। এখানে রোজা ১৯ ঘণ্টার। যারা রাখতেছে তাদের মেজাজটা বিকালের পর থেকেই সপ্তমে উঠে থাকে। রোজদারের সাথে কথা বলতে হয় খুব সাবধানে, নাইলে বিপদ। রোজাদারের মন খারাপ করা যেন আল্লা নবীর মন মেজাজ খারাপ করা!
তো যা বলছিলাম, ফেইক রোজা রোজা বলতে বলতে কাল বাসার মুমিনা আমাকে জিজ্ঞাস করলো ''ডাস্টবিনে যে প্যাড দেখলাম, তোমার কি পিরিয়ড চলে?'' আমি বললাম, ''হ্যাঁ''। মুমিনা বলল, ''তাইলে রোজা রাখো কেমনে?'' আমি কইলাম, ''ও ভুইলা গেছিলাম পিরিয়ড হইলে তো রোজা রাখা যায় না'' মুমিনা টাস্কি খাইয়া কইলো, ''এইটা কি ভুইলা যাওয়ার মত জিনিস?'' আমি-''এইটা মনে রাখার মতও তেমন কিছু না। মনে রাখার মত আরও অনেক জিনিস আছে।'' মুমিনা--''আল্লা খোদা মানো না, নাস্তিক হইসো। এইগুলাই তো কইবা। মাইনসের ডরে না, আল্লার ডরে রোজা রাখো।'' আমি চুপ। মনে মনে কইলাম, ''আমি আল্লারে ডরাই না, মাইনসেরে ডরাই। নাইলে কি আর আমার মত নাস্তিক রোজা রাখার ভান করে? জান বাঁচানো ফরজ।''
নারীর চরিত্র খারাপ বলতে পারলে সে নারীকে খুব সহজেই নষ্টা বানানো যায়। এরকম কথা তো তসলিমা নাসরিন নব্বই এর দশকে বলে গেছেন, এখনো যদি কোন পুরুষ বলে, ''অমুক নারী ততোজন পুরুষকে ভালবাসার পরও সে পুরুষকে খারাপ বলে, সে পুরুষ ছাড়া চলতে পারেনা। কি পারস্পরিক বৈপরীত্য!'' এর উত্তর খুব সহজ,''ভাল বইলা ভালবাসি এর পরে বাঁশ খাই, এতে আমি পুরুষকে ভাল বলি কেমনে? এখনো যার সাথে মিশতেছি সে ভাল আছে, কোনদিন খারাপ হইয়া যায় জানি না। হইলে তো খারাপ বলব, ভাল আছে এখনো তাই ভালই বলতেছি।'' আমি বলি কি, আপনি একশো পুরুষের সাথে মিশুন চলুন, তাদের থেকে ভালোবাসা নিন, সময় বুঝে খারাপ পাইলে ছেড়ে দিন, ভাল হইলে সাথে থাকেন। পুরুষের সাথে না মিশলে কেমনে বুঝবেন তারা কত খারাপ। আজ আপনি মুক্তমনাদের মিশেছেন বলেই বুঝতে পেরেছেন তারাও ছাগুদের মত চরিত্র খারাপ নামক কাঁচকলা খাইয়ে লোকের কাছে আপনাকে চরিত্রহীন বানাতে চাচ্ছে। আচ্ছা আপনি খারাপ জেনেও ভাল পুরুষেরা আপনার পেছনে লাইন ধরে কেন? তারা কত ভাল! দেখেন আপনার মুক্তমনা নারীবাদী বন্ধুরা কত্তো ভাল নারীবাদী হাহাহা...
মন খারাপ করবেন না, এতে কিন্তু আপনিই হিট খাবেন। তসলিমা নাসরিনের নামে কুৎসা করে এভাবেই ছাগুরা হিট খাওয়ায়। হাহাহ
উৎসর্গ:
tanima
এই পোস্টটা নারীদের জন্য:
যদি কোন বিচিওয়ালা পুরুষ আপনাকে হুমকি ধমকি দেয়, তোর চরিত্র খুলে দেব, ফাঁস করে দেব, তোর বারটা বাজাব। তবে বুঝে নিবেন সে শুধু পরুষই ছিল না, সে আপনার দুর্বল মুহূর্তের ছবি, ভিডু, রিলেশনের ইনফো ফাঁস করার পায়তারা করছে, সে একজন ঘোর নারীবিরোধী পুরীষ। আপনার সাথে যেসকল মুহূর্তে বন্ধু হয়ে সে মিশত সেই মুহূর্ত এবং বিশ্বাস গুলোও মিথ্যা ছিল। এরপর যদি সে এগুলো লোক-সম্মুখে হাজির করে আপনার চরিত্রের ভাল খারাপ সংজ্ঞায়িত করার জন্য, মনে রাখবেন তার সাথে এই সমাজের ফতোয়াবাজ মোল্লা পুরোহিতের কোন তফাৎ নাই। তারা নারীর চরিত্র রক্ষা করে ঢেকে, এরা নারীর চরিত্র রক্ষা করে ওপেন করে-নগ্ন করে। ঢাকবেন না খুলবেন আপনার ব্যাপার। ক'জনের সাথে শুবেন ক'জনকে লাত্তি দিয়ে ধোন ফাটাবেন সেটাও আপনার বিবেচনা।
শরীর কোন মসজিদ নয় যেখানে প্রবেশ সীমাবদ্ধ থাকবে। আপনার শরীরকে যেভাবে চালাতে আপনার ভাল লাগে সেভাবে ড্রাইভ করুন। কোন পুরুষ আপনাকে নগ্ন করে চরিত্রহীন করতে আসলে, আপনি আরও কিছু অংশ খুলে দিন,গলা ছেড়ে চিৎকার করে বলুন হ্যাঁ আমি চরিত্রহীন। দেখবেন রাস্তার দাঁড়িয়ে মুতা অসভ্য পুরুষ টই টই করে পিছু হটবে। ভাবুন, শরীর দিয়ে চরিত্র বিবেচনার দিন আপনি যদি না ফুরান পুরুষ আপনাকে সেদিন কখনো এনে দিবে না। সেক্স ভিডু ফাঁস করেছে কোন লোম-ওয়ালা পুরুষ, আপনি পারলে আরেকটা ফাঁস করেন। তাদের চরিত্র এতে যদি নষ্ট না হয়, আপনারটা হবে কেন? ভাবুন, মাথা খাটান।
দ্রঃ চরিত্রহননের জন্য কি কি স্টেপ নেওয়া যায়, কিভাবে নিতে হয়, তাও এই পোষ্টের কমেন্ট অপশন থেকে শিখে নাও।