Thursday, March 31, 2016

পুরুষের দ্বারা নারী, পুরুষের দ্বারা মেয়ে শিশু, পুরুষের দ্বারা পুরুষ, পুরুষের দ্বারা ছেলে শিশু, পুরুষের দ্বারা কিশোর কিশোরী, পুরুষেরা দ্বারা বৃদ্ধা, পুরুষের দ্বারা তিন মাসের বাচ্চা, পুরুষের দ্বারা কবরের মৃত নারী, পুরুষের দ্বারা গর্ভবতী নারী, পুরুষের দ্বারা গরু ধর্ষিত হয়েছে, হচ্ছে, হবে। তবুও পুরুষ প্রজাতিকে ধর্ষক বলা যাবে না। বললে জেনারালাইজড্‌ হয়ে যায়, বলতে হবে কিছু পুরুষ। পুরুষ যদি ধর্ষণ করে, পুরুষ যদি ধর্ষক হয় তবে কেন পুরুষদের ধর্ষক বলা যাবে না?
বিষয়টার মুমিনদের বখাট্য যুক্তির মত,'ইসলামের সাথে সন্ত্রাসবাদের কোন সম্পর্ক নেই। সব মুসলিম টেরোরিস্ট নয়।' যেন ইসলামের ভিত্তি কোরানের জিহাদ এবং বিধর্মীদের বাঁশ দেওয়ার নির্দেশনা মূলক আয়াতগুলো ছাড়া জঙ্গি, সন্ত্রাসবাদ আকাশ ফেরে বের হয়েছে। তেমনই ধর্ষণ পুরুষেরা করে না ধর্ষকেরা করে, ধর্ষকেরা পুরুষ না, তারা পুরুষের মত কোন প্রাণী না, তারা ইমানদন্ড প্রয়োগ করে ধর্ষণ করে না। তারা পাতাল ফুঁড়ে উঠে আসা ভিন্ন কোন প্রাণী।

Wednesday, March 30, 2016

আপনার ঘরের বোনটিকে, মেয়েটিকে, বউটিকে আমি রাতে একা একা বাড়ির বাইরে যেতে বা থাকতে দেন না। কারণ কিন্তু জীন, ভুত, বাঘ, ভাল্লুকে তাদেরকে আস্ত খেয়ে ফেলবে, তা নয়। কারণ আপনার ঘরের নারীরা রাতে বাইরে থাকলে অন্য ঘরের পুরুষদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হতে পারে, তাদের ইজ্জত নামক সোনার হরিণ লুট হতে পারে।
অন্য ঘরের পুরুষটিও তার ঘরের মেয়েদেরকে সযত্নে এভাবে হেফাজত করে রাখে, কারণ তার কাছে অন্য বাড়ির পুরুষটি তার ঘরের মেয়েদের জন্য নিরাপদ নয়।
এভাবে আমরা এক ঘরের পুরুষ আরেক ঘরের পুরুষকে অবিশ্বাস করে নারীর ইজ্জত নামক রসগোল্লা রক্ষা করি। আসলে কি নারী চরিত্রের লাড্ডু রক্ষা হচ্ছে ঘরে বা বাইরে? না হচ্ছে না। নারীকে যতই ঘরে পূরে রাখা হোক না কেন, পুরুষ যতদিন না নিজের চরিত্র ঠিক না করছে, ততদিন নারীরা নির্যাতিত হবে-ততদিনই নারী পথে, ঘাটে, হাটে দিনে রাতে ধর্ষিত হবে।
এখানে দেখা যাচ্ছে যে, /প্রত্যেক ঘরের পুরুষই যৌন নির্যাতক, ধর্ষক হতে পারে।/ বাক্যটি সম্ভাব্য বাক্য শোনা গেলেও বিষয়টি ঘটমান বলেই আমরা বাস্তবে প্রয়োগ করে থাকি। 'অমুক ঘরের পুরুষ ভাল হতে পারে' এমন দিব্বি স্বয়ং পুরুষেরাই দিতে পারে না। কারণ তারা নিজদের চরিত্রে স্খলনের বিষয়ে নিজেরা খুব ভাল ভাবেই জ্ঞাত। এর পরও কোন নারী যখন ধর্ষকের দিকে 'পুরুষ' বলে আঙ্গুল উঁচু করে, লক্ষ লক্ষ পুরুষ এসে আঙ্গুল নিচে নামানোর জন্য হুঙ্কার তোলে, 'সব পুরুষ নয়, হাতে গুনা কিছু সংখ্যক পুরুষ খারাপ। কিছু সংখ্যক পুরুষের জন্য আপনি সবাইকে দায়ী করতে পারেন না।'
উপরের এ-ঘর ও-ঘরের উদাহরণ থেকে বুঝা ভার কোন ঘরের পুরুষ আসলে ভাল পুরুষ। হ্যাঁ এর মধ্যে ভাল পুরুষ হয়তো থাকতে পারে, তারা বোধ হয় ঘরে থাকে না; তারা মঙ্গলে বা অন্য কোন গ্রহে খোলা জায়গায় বাতাসে বাস করে। ধর্ষক পুরুষেরাই আম জনতা, দুই একজন ভাল থাকতে পারে তারাই 'কিছু সংখ্যক পুরুষ'। তারা ব্যতিক্রম, আর ব্যতিক্রম কখনো উদাহরণ নয়।
(এমন ইজ্জতবিহীন, মান-সম্মানবিহীন, চরিত্রহীন লম্পট ধর্ষক পুরুষগুলা রাজ্যের যতো ইজ্জত, মান-সম্মান, চরিত্র নষ্টের বা রক্ষার দায় আবার নারীর ঘাড়েই চাপায়। নারীর ক্ষেত্রে পুরুষের ভন্ডামী, ফাইজলামী, ইতরামি এবং নোংরামির কোন মা বাপ নেই।)
স্বীকার করি-
তোমার ভালবাসা পাওয়ার মত
কোন রকম যোগ্যতাই আমার নেই।
কিন্তু 'তোমাকে ভালবাসি' এই কথা বলার মত
বেহায়া মুখটারে অস্বীকার করি কেমনে?

Tuesday, March 29, 2016

আপনি নিশ্চয়ই ঘাসের ঝোপে কিংবা পাথরের উপরে কোন কোন পিপড়াকে দেখেছেন – সারাদিন ধরে ঘাসের নীচ থেকে ঘাসের গা বেয়ে কিংবা পাথরের গা বেয়ে উপরে উঠে যায়, তারপর আবার ঝুপ করে পড়ে যায় নিচে, তারপর আবারো গা বেয়ে উপরে উঠতে থাকে। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে – এই বেআক্কেলে কলুর বলদের মত পণ্ডশ্রম করে পিপড়াটি কি এমন বাড়তি উপযোগিতা পাচ্ছে, যে এই অভ্যাসটা টিকে আছে? কোন বাড়তি উপযোগিতা না পেলে সারাদিন ধরে সে এই অর্থহীন কাজ করে সময় এবং শক্তি ব্যয় করার তো কোন মানে হয় না। আসলে সত্যি বলতে কি – এই কাজের মাধ্যমে পিপড়াটি বাড়তি কোন উপযোগিতা তো পাচ্ছেই না, বরং ব্যাপারটি সম্পূর্ণ উলটো। গবেষণায় দেখা গেছে পিপড়ার মগজে থাকা ল্যাংসেট ফ্লুক নামে এক ধরনের প্যারাসাইট এর জন্য দায়ী। এই প্যারাসাইট বংশবৃদ্ধি করতে পারে শুধুমাত্র তখনই যখন কোন গরু বা ছাগল একে ঘাসের সাথে চিবিয়ে খেয়ে ফেলে। ফলে প্যারাসাইট টা নিরাপদে সেই গরুর পেটে গিয়ে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। পুরো ব্যাপারটাই এখন জলের মত পরিষ্কার – যাতে পিপড়াটা কোন ভাবে গরুর পেটে ঢুকতে পারে সেই দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঘাস বেয়ে তার উঠা নামা। আসলে ঘাস বেয়ে উঠা নামা পিঁপড়ের জন্য কোন উপকার করছে না বরং ল্যাংসেট ফ্লুক কাজ করছে এক ধরনের ভাইরাস হিসবে – যার ফলশ্রুতিতে পিঁপড়ে বুঝে হোক, না বুঝে তার দ্বারা অজান্তেই চালিত হচ্ছে।
ল্যাংসেট ফ্লুক নামের প্যারাসাইটের কারণে পিঁপড়ের মস্তিষ্ক আক্রান্ত হয়ে পড়ে, তখন পিঁপড়ে কেবল চোখ বন্ধ করে পাথরের গা বেয়ে উঠা নামা করে। ধর্মীয় বিশ্বাসগুলোও মানুষের জন্য একেকটি প্যারাসাইট। (‘ব্রেকিং দ্য স্পেল’,ড্যানিয়েল ডেনেট। বিশ্বাসের ভাইরাস, অভিজিৎ রায়)
পাকিস্তানের লাহোর শহরের দক্ষিণ পশ্চিমে গুলশান-ই-ইকবাল নামে একটি বড় পার্কে রোববার বিকেলে শিশুদের দোলনার কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হয়েছে ৬৯ জন। অনেকেই ধারণা করছেন, ইস্টারের ছুটি উপলক্ষে পার্কে আসা খৃষ্টান পরিবারগুলো হয়তো এ হামলার লক্ষ্য ছিল। হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান জামায়াতুল আহরার (Tehreek-i-Taliban Pakistan Jamaatul Ahrar) নামে ইসলামী জঙ্গি সঙ্ঘটন।
চার মাস আগে প্যারিসে হামলায় মারা গেলো ১৩০ জন। পাঁচ দিন আগে বেলজিয়ামের 'ব্রাসেলস' এর রেল স্টেশন ও বিমানবন্দরে হামলায় মারা গেলো ৩৫ জন। এই হামলার দাগ এখনো দগদগে। ইউরোপীয় চ্যানেল খুললে লোকের কান্না আর হাহাকারের চিত্র।আত্মঘাতী হামলা করে বিধর্মীদের মারলে মুসলিমদের আর কিছু না হোক, নিজেকে মেরে হলেও মস্তিষ্কের প্রথিতগাঁথা ইসলাম ধর্মের প্যারাসাইটটা রক্ষা হয়, যার নির্দেশ রয়েছে স্বয়ং কোরানের বিভিন্ন আয়াতে (৪:৮৪), (৫:৫১),(৪৭:৪), (৩:১৬৯)(৯:১১১)। ওম ইসলাম, ওম শান্তি, ওম বিশ্বাস...!
বলেছিলাম- ধর্ষণ কেন হয়? কারা করে? কাকে করে? এর থেকে প্রতিকারের উপায় কি?
আমরা শর্টকাট ওয়ে পছন্দ করি, এই প্রশ্নগুলো ছাপিয়ে শাস্তিকেই সমাধান দিচ্ছি সবাই। কেউ কেউ ধর্ষকের লিঙ্গ কর্তন, কেউ প্রকাশ্যে হত্যা বা কেউ কেউ আবার এক কিলোমিটার দূরে দূরে বেশ্যালয় চাচ্ছেন। এটা হলে ঠক বাছতে গ্রাম উজাড় হবে।অনেকেই বলে থাকেন ৯৯% পার্সেন্ট পুরুষ মগজে মননে ধর্ষক। এতে করে পুরু জাতি খোজা হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।
আপনি জন্মনিরোধ পদ্ধতি ব্যবহার করলে বাচ্চা হবে না, তা না করে আপনি প্রত্যেকবার গর্ভপাতকরাচ্ছেন, এইটা তো সমাধান নয়।
আমাদের এমন কিছু সমাধান দরকার যা করলে ধর্ষণ রোধ হবে, ধর্ষকের শাস্তি পরের বিষয়। আগে ধর্ষক যাতে তৈরি না হয় সেরকম শিক্ষা দরকার। আগে আমি আপনি যেন ধর্ষক না হই, সেজন্য কি করা যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
ইতুর (Ettila Roy Etu) পোস্টের মাধ্যমে জানতে পারলাম, স্কুলে ইসলাম ধর্ম এবং সনাতন ধর্ম বইয়ের নাম চেঞ্জ করে 'ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা' এবং 'সনাতন ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা' করা হয়েছে। কিছুদিন আগে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ধর্মীয় শিক্ষাকে নৈতিক শিক্ষার মূল ভিত্তি বলেছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দেশের সবার ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করবেন।
একই ক্লাসে দুইটা ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম, দুইটা ভিন্ন ধারার আচার আচরণ, দুটো সৃষ্টিকর্তার পরিচয়সহ দুই ধরণের ধর্মীয় সংস্কৃতি শিক্ষা দিচ্ছে, একই সময়ে একটা নির্দিষ্ট প্রজন্মকে দুই ধরনের আদর্শের শিক্ষা- সম্পূর্ণ দুই রকমের মানুষ তৈরি করছে। এটা কেমন করে একটা জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নৈতিক শিক্ষার মানদণ্ড হয়? তা তো স্পষ্টত এক-পাক্ষিক সাম্প্রদায়িক অপশিক্ষা। হিন্দুরা কৃষ্ণের বহুবিবাহ, নির্লজ্জ লুচ্চামির চরিত্রটাকে নারী উপকারের তকমা হিসেবে নিয়ে নৈতিকতা শিখবে, অন্য দিকে মুসলমানেরা মোহাম্মদের বহুবিবাহ নারী লোভী কামুক চরিত্রটাকে নারী উপকারের আদর্শ জানবে। এভাবেই তারা দুই ধর্মের দুই বিশ্ব লুচ্চা, নারী বিদ্বেষী, কামুক, খুনি অবতারদের সবচেয়ে বেশি নারী বান্ধব হিসেবে জানবে । এক পক্ষ আবার অন্য পক্ষের অবতারের জন্য লালন করবে একরাশ ঘৃণা, হিংসা ও করুণা।
ধর্ম শিক্ষা আসলে আমাদেরকে কোন কোন বিষয়ে নৈতিক শিক্ষা দেয়! গুরুজনকে সম্মান, ছোটদের স্নেহ, মিথ্যা বলা মহাপাপ, কবরের আজাব মুক্তির দোয়া, স্বর্গের লোভ, নরকের ভয়, পূজা, নামাজ, ঈশ্বরের উপাসনা। এইগুলোকে নৈতিক শিক্ষা বলে? স্কুল ধর্ম বই গুলোতে ধর্মের সব ভাল ভাল জিনিস গুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, খারাপ গুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা ধর্ম ব্যবসায়ীদের এক ধরনের হিপোক্রেসী। যারা স্কুলের শিক্ষাব্যবস্থায়ও দিব্যি ব্যবসা করে চলছে। যে শিক্ষার শুরুতেই হিপোক্রেসী তা কিনা হচ্ছে শিক্ষার ভিত্তি! একটা বাচ্চা স্কুলে ধর্ম বই পড়ে যতটুকু জানবে তা হল দুধকলা শিক্ষা। এইটুকু শিক্ষায় শিক্ষিত করে জাস্ট ধার্মিক সাপ টাকে পোষা হয়, অন্য কিছু নয়। এর পরবর্তী সময়ে কেউ তাদের নিজেদের ধর্মের কুসংস্কারাচ্ছন্ন বা অন্যায় অংশ তুলে ধরলে, সেই সাপটা বিষাক্ত ফণাটা তুলে নড়েচড়ে তেড়ে আসবে ছোবল দিতে।
ধর্মীয় শিক্ষা কখনো নৈতিক শিক্ষার ভিত্তি হতে পারে না। ধর্মীয় শিক্ষা একজন মানুষকে সাম্প্রদায়িক, সহিংস, এক কেন্দ্রিক, নারীর প্রতি তুচ্ছ ভাবাপন্ন, হিংসুটে, খুনি, মিথ্যেবাদী, স্বার্থপর এবং পরকালের লোভ/ভয়ে পরে বিচার বিবেচনাহীন মানসিক বিকারগ্রস্ত প্রাণী হিসেবে করে গড়ে তুলে, অন্যকিছু নয়।
সবশেষে বলতে চাই, প্রতিটা ধর্ম নারীকে পণ্য এবং ভোগের বস্তু ভাবতে শেখায়। মানুষকে যে ধর্ম মানুষের মর্যাদা না দিয়ে অমানুষের মত ট্রিট করে, তারা দেবে নৈতিক শিক্ষা? হাউ ফানি!
মেয়েরা এক রাত বাইরে থাকলে যে দেশের পুরুষেরা মেয়েদের নষ্ট খেতাব দেয়, তারা মগজে মননে আদর্শে কতোটা ধর্ষকামী তা কি বলে বুঝাতে হবে?