Friday, July 15, 2016

পৃথিবীর কোথাও মানুষ হত্যা হয়েছে, সেই হত্যার জন্য দায়ী যদি কোন মুসলিম হয় তবে আওয়াজ উঠে- ইসলাম শান্তির ধর্ম, মুসলিমরা কখনো টেরোরিস্ট হয় না। এই হত্যার জন্য দায়ী যদি মুসলিম নাও হয়, তবুও আওয়াজ উঠে- ইসলাম শান্তির ধর্ম, মুসলিমরা কখনো টেরোরিস্ট হয় না। এসব বলে, কয়ে, মেরে, কেটে, আদরে, আহ্লাদে, ইনিয়ে-বিনিয়ে তারা একটা কথাই বলতে চায় --পৃথিবী জুড়েই অশান্তির জয়জয়কার, একমাত্র শান্তির ছায়াতল ইসলাম; তোমরা দয়া করে ইসলামের ছায়াতলে আসো, এতেই কেবল শান্তি আর শান্তির দূতদের বসবাস।
সেদিন টিভির খবর দেখে লিখেছিলাম, গুলশানে জঙ্গিরা নারীদের উপর বীভৎস রূপে আক্রমণ করেছে। শান্তির ছাউয়েরা এসে ঘাউ ঘাউ করতেছিল, এই খবর নাকি আমি বানিয়েছি। ইসলামকে কলঙ্কিত করাই আমার লক্ষ্য। আজকের সমকালের খবর, তারিশি মৃত জেনেও তার সারা শরীরে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জখম করা হয়েছে, তারা সারা শরীরে ৩০-৪০ টি আঘাতের চিহ্ন। যে দশজন নারী আর্টিজানে মারা গেছে তাদের সবাইকে অন্যদের থেকে বেশি আঘাত করা হয়েছে। অনাগত সন্তানের দোহাই দিয়েও রক্ষা পায়নি ইতালিয়ান সাত মাসের গর্ভবতী নারী মারিয়া বোরিলি। ঊটপুতেরা মানুষ বুঝে না শান্তি বুঝে। তাদের কথায় আচার আচরণে এমন একটা ভাব, জঙ্গিরা তাদের আপন মায়ের পেটের ভাই, এদের বিরুদ্ধে আমি অপপ্রচার চালিয়ে ইসলামের শান্তি নষ্ট করতেছি। তোদের লজ্জা করে না? হারামীর জাত-- মানুষ মারোস আবার শান্তি শান্তি বলে কাউ কাউ করস! আরে তোদের শান্তি আমি কি নষ্ট করব, তোদের জাত ধর্মের ভাই ব্রাদাররাই শান্তিকে ধরে তোদের বাপেদের পেছন দিয়ে ঢুকিয়ে দিয়েছে। ছুদির ইসলামের রক্তের ভাউ ব্রাদারদের পারলে কে কিছু বল, তারা তোদের শান্তিকে কেন অশান্তি বানাচ্ছে?
কাল রাতে প্যারিসে আবার একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে গেল। সেজন্য সেদেশের প্রেসিডেন্ট বলেছে, ''এশার নামাজ না পরে যারা বেপর্দা হয়ে, মদ খেয়ে রাস্তায় উৎসব করতে নামে, তাদের এমন পরিণতি হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। পুলিশি তদন্ততে এসেছে, সে রাস্তায় কিছু নাস্তিক ব্লগার ছিল। তারা পর্ণ লেখালেখি করতো বিধায় তাদের মৃত্যুতে এতো শোকের কিছু নেই। তাছাড়া জাতীয় উৎসবে রাস্তায় নামা ফ্রান্সের লোকজনের একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রাইভার মুসলিম হলেও তার ফরেনসিক রিপোর্ট বলছে, হামলার আগে সে দুই পোটলা ক্যাপ্টাগণ ট্যাবলেট খেয়েছে বিধায়, সে তার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে এমন কান্ড ঘটিয়েছে।। তবে এই বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে। আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলছি- ফ্রান্সে কোন জঙ্গি নাই। ফ্রান্সের জনগণ শান্তিকামী, তারা জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না। ফ্রান্সের উন্নয়নের জোয়ারকে বিশ্বব্যাপী কলঙ্কিত করার জন্য বিরোধী দল এই হামলা চালাতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই। ইসলাম ধর্মের লোকজন এশার নামাজ বাদ দিয়ে যে মানুষ হত্যা করতে পারে না, সেটা আমরা আগেও বলেছি। এতেই প্রমাণিত হয় এই ড্রাইভার মুসলিম না। তাছাড়া লরির ড্রাইভাররা কখনো মুসলিম হয় না।''
অন্যদিকে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতি বলেছে, ''ফ্রান্সে কোন টেরোরিস্ট এটাক হয় নাই, এটা বরাবরের মতই একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ফ্রান্সের জনগণদের বোঝা উচিত--শুধু ফ্রান্স কেন? এরকম ঘটনা বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের মত দরিদ্র দেশেও হচ্ছে। ফ্রান্সের জনগণদের এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে পাত্তা দেয়াটা মোটেও উচিত না। তবে মানুষ গুলো কেন দৌড়ে পালাতে পারল না, গাড়ির নিচেই চাপা পরলো, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা কি আসলেই মারা পরেছে, নাকি নিজেরাই সুইসাইড করেছে সেটাই এখন দেখার বিষয়।''
আফসোস! আমার দেশের শান্তির ছত্রছায়ায় আশ্রিত ইমানদার মুমিন মুসলিম জনগণ, মন্ত্রী, এমপিরা সহ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও যদি গুলাশান হামলাটাকে বেশি সিরিয়াসলি টেরোরিজম হিসেবে না নিয়ে, ফ্রান্সের মত হালকাভাবে নিতো; তবে বিশ্বের দরবারে দেশের ভাবমূর্তিটা আর নষ্ট হতো না।

Thursday, July 7, 2016

ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি ইসলাম ধর্মই একমাত্র সত্য ও ঈশ্বর প্রদত্ত ধর্ম; আর সব ধর্ম মিথ্যা বলে মানেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি অন্যান্য সব ধর্ম ও বিজ্ঞান ফেলে ইসলামই একমাত্র পরিপুর্ণ জীবন বিধান বলে মেনে চলেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি মোনাজাতে কেবলমাত্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি প্রার্থনা করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম যদি আপনি বোরকা হিজাব পরে ঘর নিজেকে পর্দায় রাখেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি নির্ধারিত চৌদ্দ-জন পুরুষ ছাড়া অন্য পুরুষের সাথে দেখা সাক্ষাত কথা না বলেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি আজানের সময় মাথায় কাপড় দেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি কোরান হাদিস মেনে সুন্নত ফরজ সব পালন করে জীবনযাপন করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি চিত্রকর্মকে জীবনে এলাউ না করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি কখনো গান না শুনেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি কখনো টিভি না দেখেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি নাচানাচিকে হারাম মনে করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি আল্লাহ প্রদত্ত শরিয়া আইন মেনে চলেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম যদি আপনি পায়খান প্রস্রাবের পর ঢিলা কুলুপ নেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি আপনার স্বামীকে দাসী সঙ্গম এবং বহুবিবাহে অনুমতি দেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি বিধর্মীদের সাথে বন্ধুত্ব না করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি প্রতিনিয়ত আল্লাহকে ভয় করতে থাকে।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি জীনে বিশ্বাস করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি সূর্য রাতের বেলা আল্লার আরশের নিজে অসৎ যায় বিশ্বাস করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি চন্দ্র ও সূর্য এঁকে অপরের পেছনে ছুটাছুটি করে বিশ্বাস করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি পৃথিবী সমতল বিশ্বাস করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্ট বিশ্বাস করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি কোরান বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ বলে মানেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি ছয়-নয় বছরের মেয়ে শিশু বিবাহের যোগ্য বিশ্বাস করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম যদি আপনি, নারী পুরুষের হাড় থেকে সৃষ্ট বিশ্বাস করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি জীবনে শুকর মদ না খান।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি পালক পুত্রের বউকে বিয়ে করা যায় মেনে নেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি নবী চৌদ্দ পনেরটা বিয়ে করেছেন নারীর উপকারের জন্য, সেক্সের জন্য নয় বিশ্বাস করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি ইসলাম রক্ষার জন্য জিহাদ সমর্থন করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি কবিতা লেখা হারাম জ্ঞান এবং কবির পেট পুঁজে ভর্তি বিশ্বাস করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি বউ পেটানো অনুমোদন দেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি বোনকে ভাইয়ের অর্ধেক সম্পত্তি দেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি হস্তমৈথুন ও গর্ভপাতকে হারাম মনে করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি রজঃস্রাবের সময় নারীকে নাপাক মনে করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি চুরির শাস্তি হাত কাটা মেনে নেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি সুদ ঘোষ কে হারাম বলে মানেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি পরকালের রুপকথায় বিশ্বাস করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি ধর্ষণে চারজন সাক্ষী রাখেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি নারী নেতৃত্ব হারাম মনে করেন।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, যদি আপনি গণতন্ত্রে না মেনে আল্লাহ প্রদত্ত বিধান শরিয়াহ্‌ মেনে চলেন।
এগুলো যদি আপনি সঠিকভাবে মেনে চলেন তবে ইসলাম অবশ্যই একটি শান্তির ধর্ম। আর এর কোনটা না মানলে ইসলাম কি আর শান্তির ধর্ম থাকে?

Wednesday, July 6, 2016

https://www.facebook.com/who.annopurnadebi/posts/1604337209833487
পুরুষেরা সবচেয়ে বেশি ভয় পায় কোন নারীর মুখে তাদের তাদের বিরুদ্ধ কথা শুনতে । কারণ তারা জানে, যে অন্যায় তারা নারী জাতির সাথে করেছে বা করে চলছে ...সেসব ব্যাপারে নারীরা যদি মুখ খুলে তবে তাদের দাঁড়ানোর মত পায়ের নিচে মাটি থাকবে না ।
সেজন্য কোন নারী যদি মুখ খোলে তাদের বিপক্ষে কথা বলে , তারা তাকে 'অসতী' 'দুশচরিত্রা' ইত্যাদি খেতাব দিয়ে বা 'তোকে কিংবা তোর মাকে চুদি' অথবা 'তোর জন্মের ঠিক নাই' বা 'তোর জন্ম বেশ্যা পাড়ায়' ইত্যাদি বলে মুখখানা বন্ধ করাতে চায় । ব্যাপারখানা এমন যেন মেয়েটির জন্ম কোন নারীর যোনী দিয়ে না হয়ে কোন পুরুষের পায়ুপথে হয়েছে । তা না হলে বেঠিক জন্ম আবার হয় কেমনে ? আর বেশ্যা পাড়ায় জন্ম যেন বেশ্যালয়ে পুরুষের গমন ছাড়াই দুটি বেশ্যার মিলনে হয়ে যায় !?
তারা এটাও জানে এসব গালি দিয়ে তারা নিজেরাই তাদের চরিত্রের কাল দিক প্রকাশ করে । তবুও তারা গালি দেয় , ক্ষমতা ঠিক রাখতে তারা বোধ হয় গু ও খাইতে পারবে , তা না হলে কতটা নিচে নামলে তোর মারে চুদি, তোর এক রাতে রেট কত এই টাইপের গালি দিয়ে নিজেকে ধর্ষক-লম্পট-লুইচ্চা ও পতিত বানিয়ে , কোন মানুষ সুখ কি পেতে পারে ?!
তারা প্রথমে মুখে বলবে , তারপর গালি দেবে , তারপর মারধোর করবে অথবা মেরে ফেলার হুমকি দেবে তা না করতে পারলে দেশ ছাড়া গ্রাম ছাড়া গৃহ ছাড়া করবে । পুরুষের স্বার্থের জন্য নারী নির্যাতনের প্রশ্নে সকল সময় সকল পুরুষ একদল ও একজোট হয়ে কাজ করে ।
কিন্তু-নারীরা এক হতে পারে না , তারা নিজেদের মগজে দাসত্ববোধ এমন ভাবে ঢুকিয়েছে যে ,ঘরে বাইরে নিজের শরীরের মুভমেন্ট করা ও নিজের পোশাক আশাক নির্ধারণ সহ দৈনন্দিন সকল কাজের জন্য পুরুষের মস্তিষ্ক প্রসুত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল । জগতের সব মেয়ে যদি তাদের সীদ্ধান্তে এক হয় তবে কোন পুরুষের কি সাহস আর শক্তি আছে নারীর উপর চোখ রাংগায় ! নারীর চোখের রঙ্গেই তো তারা ভেসে যাবে দূর আকাশে ! ফুঁ !
তসলিমা নাসরিন নারীর অধিকারের কথা বলা শুরু করল ধর্ম গেল !
হুমায়ুন আজাদ পাক সার জমিন সাদ বাদ লিখল ধর্ম গেল !
সরকার নারী নীতি ২০১১ বাস্তবায়ন করতে গেল ধর্ম গেল !
আসিফ মহিউদ্দিন ধর্ম নিয়ে ব্লগে লেখালেখি করল ধর্ম গেল!
রাজীব হায়দায় ধর্ম কে ব্যাঙ্গ করে ধর্মকারীতে লিখল ধর্ম গেল !
অভিজিৎ রায় বিজ্ঞান আর যুক্তিতে ধর্মকে ধুয়ে দিল ধর্ম গেল !
ওয়াশিকুর বাবু ফেবুতে দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিল ধর্ম গেল !
অনন্তও বিজ্ঞান দেখিয়ে ধর্ম কে কাঁচকলা দেখাল ধর্ম গেল !
দাঁড়িপাল্লা চুতরাপাতা দিয়ে ধর্ম কে চুলকানি দিল-- ধর্ম গেল , ধর্ম গেল !
লতীফ সিদ্দীকি হজ্জ কে ব্যবসা আর নবী তার বাপের ছেলে বলল ধর্ম গেল !
আবদুল গাফফার আল্লার নিরানব্বই নামকে কাফেরদের নাম কইলো ধর্ম গেল !
হৈ হৈ কান্ড রৈ রৈ ব্যাপার !
ধর্মের লেজে আগুন লাগল আবার !
হৈ হৈ কান্ড রৈ রৈ ব্যাপার !
যায় যায় ধর্ম জ্ঞান হারালো আবার !
হৈ হৈ কান্ড রৈ রৈ ব্যাপার !
ইসলামের নুনুভুতিতে আঘাত আসছে আবার !
হৈ হৈ কান্ড রৈ রৈ ব্যাপার !
আল্লা নবী বাঁচাতে চাপাতি লও আবার !
ধর্ম গেল বলে ডাকে ধর্ম গেল পাখি---
আমরা অন্ধ তীরন্ধাজ দাঁড়িয়ে থাকি !

Tuesday, July 5, 2016

তনুর খুনিদের না ধরে আমাদের পাহারা দিয়ে রাখা হচ্ছে। বাসার ডিশ লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে যেন তনুর সংবাদ দেখতে না পারি। কিছুদিন আগে তনুর লাশ উদ্ধারের স্থানে আমাকে গাড়ি ও মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
----তনুর বাবা ইয়ার হোসেন
লেখে তো অনেকেই। এই যে এখানে যত লেখক আছেন, সকলেই বই লেখেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তো মেলায় মিছিল হয় না। আপনার বিরুদ্ধে হয় কেন? মেয়ে হয়ে আপনি পুরুষের মত লিখতে যান কেন? সে কারণেই তো ঝামেলা হচ্ছে। আপনার লেখা আমি পড়েছি। কোনও মেয়ে কি আপনি যে ভাষায় লেখেন, সে ভাষায় লেখে? আপনার লেখা খুব অশ্লীল। আপনি মেলায় না এলে ভাল হয়। আপনি এলে মেলায় গণ্ডগোল হয়, তাই আপনি আসবেন না।
----বাংলা একাডেমীর বইমেলায় মহাপরিচালক হারুন উর রশীদ (উদ্দেশ্য তসলিমা নাসরিন)
নিহত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নাজিমুদ্দিন সামাদ ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর লেখালেখি করতেন কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ব্লগে আপত্তিজনক লেখা লিখেছে কিনা তা দেখার প্রয়োজন আছে। আগের যে হত্যাকাণ্ডগুলো হয়েছে তাদের ব্লগ যদি দেখেন, এভাবে মানুষের ধর্মে আঘাত দেওয়া, বিশ্বাসে আঘাত দেওয়া, পৃথিবীর কোনো দেশেই তা গ্রহণযোগ্য নয়।
----স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান
আজব এক দেশ বাংলাদেশ! যে দেশে অপরাধীরা সাজা না পেয়ে সাজা পায় ভিকটিমেরা।
আমি যখন পুরুষের বিরুদ্ধে কোন বিষয়ে পোস্ট দেই তখন কোন নারীবিদ্বেষী পুরুষকে আমার ডাকতে হয় না, তারা আপনি এসে কমেন্ট-বক্সে পরিচয়টা দিয়ে যায়। এটা নতুন নয়। মেয়ে আইডিগুলো কমেন্ট-বক্স উন্মুক্ত রাখতে পারে না, ভয়টা কিন্তু মেয়েদেরকে নিয়ে নয়, ভয়টা পুরুষ নামক বিচীওয়ালাদের অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য । বলতে পারেন পুরুষেরাও কমেন্ট-বক্স উন্মুক্ত রাখতে পারে না। হ্যাঁ পুরুষেরাও পারে না, ভয়টা সেই একি জায়গায়, কমেন্ট বক্সে মা বোন বউকে নিয়ে টানা হ্যাঁচরা করে নারীবান্ধব পুরুষের দল। এখানে তন্ত্র না বলে পুরুষ বললে কারো যন্ত্রে আঘাত লাগলে আমার কিছু করার নেই।
নারী বিরুদ্ধে পুরুষের অত্যাচারী ধর্ষকামী মনোভাব বোঝার জন্য তত্ত্বকথা পড়তে হয় না, চোখ থাকলে--আর নিজের ঘরে নারী থাকলেই এটা স্পষ্ট বোঝার কথা। আর এখন অনলাইনের সুবাদে কমেন্ট বক্স সেটা জানার সুযোগ পুরোপুরি করে দেয়। তার পরও আপনি যদি চোখে পট্টি পরা স্বেচ্ছা অন্ধ লোক হওন, তবে ধরে নিতে হবে আপনিও তাদের একজন।
প্রায়ই একটা কথা শোনা যায়, শিল্পী লেখক সাহিত্যিকদের লিঙ্গ পরিচয় বড় কথা নয়, তাদের সৃষ্টিই বড়। কথাটা আমি মানি, আপনি মানেন কিনা সেখানে আমার সন্দেহ আছে। কারণ একজন শিল্পী কে নারী বলে পুরুষেরা চাইলেই ছুদে দিতে পারে, ইন-বক্স আউট-বক্স বা পাবলিক প্লেসে। একজন পুরুষ শিল্পীকে কোন নারী আজ পর্যন্ত ছুদতে যায়নি। কেন? যায় তো নি-ই, এমনকি কোন নারী শিল্পী যদি কোন পুরুষ শিল্পী কে নিয়ে সমালোচনা করে, তবে উক্ত নারী শিল্পীকে কটাক্ষ করে তার দৈর্ঘ্য প্রস্থ উচ্চতা সহ গভীরতা মাপার জন্য ইঞ্চি টেপ আমাদের আঙ্গুলচ্যুত হয় না। কেন?
লেখক কবি সাহিত্যিকের সমালোচনা অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। সবাই সব মত গ্রহণ করবে না, এটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে তসলিমা নাসরিন সমালোচনার সবচেয়ে উপাদেয় উপাদান সেটা আমরা জানি। তিনি সরাসরি পুরুষতন্ত্র সহ পুরুষকে আক্রমণ করে কথা বলেন বলে, তার বক্তব্য হজম করতে কম বেশি সবারই কষ্ট হয়। তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে আপনি সমালোচনা করতে পারবেন ভাল কথা, তসলিমা নাসরিন কাউকে 'পুরুষ' বলে সমালোচনা করলে আপনি সেটা নিতে তো পারবেনই না, উল্টো সে কোন কোন ক্ষেত্রে আপনার থেকে ছোট, আপনার থেকে অযোগ্য বা সারাজীবন চেষ্টা করলেও আপনার মত একখান উপন্যাস বা কবিতা লিখতে পারবে না, সেই নিশ্চয়তাও আপনি তাকে দিয়ে দিচ্ছেন। কেন আপনি তসলিমার সমালোচনার যোগ্যতা রাখেন, আর তসলিমা নাসরিন কেন আপনার মত বিখ্যাত কোন পুরুষের সমালোচনা করতে পারবে না? আপনি তসলিমা নাসরিনের সীমানাটা নির্ধারণ করে দিচ্ছেন, কেন বলুন তো? কোন সাহসে? কারণ সে নারী লেখিকা আর সে আপনাকে 'পুরুষ' বলে কিছু কড়া কথা বলে কটাক্ষ করেছে। এখানে আপনি তাকে 'নারী' বলে উল্লেখ না করলেও আপনার আচরণই বুঝিয়ে দিচ্ছে আপনার স্পর্ধার কারণ।
তসলিমা নাসরিন অবিবেচকের মত কথা বলেছেন, আলোচনা উস্কে দিচ্ছেন, অশ্লীল লিখেছেন, ফালতু লিখেছেন, এটা নতুন নয়। আজকে আবার নতুন করে উল্লেখিত হয়েছে, কারণ তিনি এমন একজনকে নিয়ে লিখেছেন যিনি আবার আপনার পছন্দের কবি-লেখক-শিল্পী। এজন্য আপনি তার সমালোচনা করে যা ইচ্ছে তাই বলে নারীবাদ আর পুরুষ বিদ্বেষের সীমারেখা দেখিয়ে দিচ্ছেন। আপনি তাকে নতুন করে নারীবাদ শেখাচ্ছেন। কিন্তু আপনি ভাবছেন না, আপনার মত একই ভাবে উক্ত লেখক-কবি-শিল্পী কে তসলিমার ভাল না লাগতে পারে, তার মাঝে সে নারীবিদ্বেষ দেখতে পারেন, সীমাবদ্ধতা দেখতে পারেন, উক্ত লেখক-কবি-সাহিত্যিকের লেখা তার অপছন্দ হতে পারে; এটা কেন মানতে পারছেন না? আপনি কিন্তু নারীবাদ আর পুরুষবিদ্বেষ নতুন করে বোঝাতে গিয়ে আপনার সুপ্ত নারী-বিদ্বেষটাই দেখাচ্ছেন! বুঝতেছেন না? আরেকবার পড়েন।
শুরুতে ফিরে যাই। নারীর বিরুদ্ধে পুরুষতন্ত্র দিনের আলোর মত স্বচ্ছ হলেও, এটা গ্রহনযোগ্য; এটা আমাদের দৃষ্টিতে কোনভাবেই নারী বিদ্বেষ নয়। কিন্তু পুরুষত্বন্ত্রের বিরুদ্ধে নারীবাদ ফুলকির মতো জ্বললেও, ওটা অগ্রহনযোগ্য, কারণ এটা পুরুষবিদ্বেষ। নারীবিদ্বেষ হয়েছে, হচ্ছে, হবে----কিন্তু পুরুষতন্ত্র তথা পুরুষের বিরুদ্ধে কিছু বললেই তা পুরুষবিদ্বেষ উপাধি পাবে, আর পুরুষবিদ্বেষটা কোন ভাবেই সহী বিদ্বেষ নয়। এই পৃথিবীতে সবচেয়ে সহী, সবচেয়ে জনপ্রিয়, সবচেয়ে প্রয়োগকৃত বিদ্বেষ নারী বিদ্বেষ। বিদ্বেষের প্রতিযোগীতায় এক্ষেত্রে পুরুষেরা বরাবরই পরাজিত থাকতে পছন্দ করে।
দ্রঃ তনার পক্ষে যদি আমি মুখ খুলি আপনারা আমাকে তনাদ্ধ, মুরিদ, উম্মত, চ্যালা অনেক কিছুই উপাধি দিবেন। আপনারাও একই ভাবে কারোর পক্ষে বলতে গিয়ে তনার বিরুদ্ধাচারণ করছেন, আপনিও কি ত্যানার অন্ধ, মুরিদ, উম্মত অথবা চ্যালা?
আপনার বক্তব্যের নারীবাদীতা যখন ''অতি নারীবাদীতা" ট্যাগ খায় তখন খুব সাধুতার আড়ালে আপনার নারী-বিদ্বেষটাই প্রকাশ পায়। সেটা অতি না অল্প বিবেচ্য নয়। নারীবাদীতা-কে আপনি কটাক্ষ করে অতি নারীবাদীতা বলতে পারেন। নারী বিদ্বেষ টা অতি আর অল্প নির্ভর করে না। নারীবিদ্বেষ অল্প হলেও নারীবিদ্বেষ, বেশি হলেও তা-ই।
"আমরা যারা নারীবিদ্বেষী সমাজে বসবাস করেও নারীবাদ চর্চা করি, এদের মত বালছাল উগ্র নারীবাদী মুহূর্তেই আমাদের খারিজ করে দেয়; কতো বড় সাহস!" জী ভাই আপনি অনেক নারীবান্ধব পুরুষ,নারীর অধিকার আন্দোলনে কতোটা নারীবাদী সেটা আপনার কথাতেই প্রকাশ পাচ্ছে। মনে হচ্ছে নারীকে করুণা করতে নারীবাদী সাজছেন। আর এই কারণেই বালছালগুলা আপনারে গুনায় ধরে না।
"এদের কাছে পুরুষ মানেই ধর্ষক।"
পুরুষ সবকিছুতে শ্রেষ্ঠত্ব পাইলেও, নারীর কাছ থেকে এর চেয়ে উত্তম উপমা পাওয়ার মত কর্ম করতে পারে নাই। এইখানেও দোষ কি নারীবাদীর? কথাটা নারীর পোশাকই ধর্ষণের কারণের মত শোনায় না?
ভাবতেছেন আমার মত বালছালরে আনফ্রেন্ড করবেন? করেন, ভুলেও তনারে কইরেন না।