Wednesday, November 16, 2016

আর নিশীতে ঘুমকাতুরে হিমবালকের
দূরদেশের পাখিটির কথা ঘুণাক্ষরেও মনে রবে না।
দ্বিপ্রহরের ঘুঘুর ডাকে চলতি পথে উদাস হয়ে
মেঘাচ্ছন্ন দিনের আলোর কুহক ধরা মনে খবর
ব্যাথার হাতে মেসেজ করে তাকে আর জানাতে হবে না। 
অন্ধকারের ছায়া বাড়লে ফোন কল কাটার কথা ভুলে গিয়ে
'আমার কিন্তু ঘুম পাচ্ছে না'
বলতে বলতে রেগে গিয়ে সে আর নাই হবে না।
কথার সাথে ব্যাথারা সব অঙ্গে অঙ্গে মিশে গিয়ে
একই শব্দে তাল মিলিয়ে সুর তোলার চেষ্টা করবে না।
আর রাত্রিতে পাখিটির মাথার ভেতরে ঘুণপোকারা
কুট কুটিয়ে মগজ কেটে ঘুম চিবোবে।
কামড়ে কামড়ে ক্লান্ত হয়ে ঘুম বিলিয়ে বিস্ফারিত চোখে
বর্তমানের মায়ার খেলা দেখতে দেখতে মন ভুলাবে।
বার বার প্রতিবারই রাত কে দিন ভেবে ভুল করবে
ভুলতে ভুলতে নীদ্রাহীনতার রোগে ভোগবে,
আরপর অতীতস্মৃতির ফুলের ঝুড়ি বিস্মৃত হবে।
আগ্নেয়গিরির জ্বলন্ত লাভা চাটা আগুনখেকো তৃষ্ণা নিয়ে
কয়েক আলোকবর্ষের সঞ্চিত অপেক্ষা শেষে
আমাদের জিহ্বাটা শিকারির মত লকলক করে লালায়িত হয়।
আমরা নিজেরা একেকজন রাস্তার ধারে
শুকনো ভেজা সব গু শুঁকা কুকুরের থেকেও নিকৃষ্ট কুকুর যেন! 
তৃষ্ণার চাওয়ার আর না পাওয়ার আক্ষেপের অন্ত নেই।
আজও বিশ্বজুড়ে ক্ষুধায়, দারিদ্রে, হতাশায়, দুঃখ-যন্ত্রনায় মানুষ মারা যায়। ধর্ম মোল্লা পুরোহিতকে মানুষের দ্বারে ভিক্ষার বেলাল্লা কোরমা পোলাও ছাড়া কারো মুখে দু'মুঠো ভাত কোনদিন কাউকেই দিতে পারেনি। জনসংখ্যা আর অশিক্ষা কুশিক্ষার ভারে জর্জরিত বাংলার মানুষেরা আজও এক ধর্মকে শ্রেষ্ঠ করতে অন্যকে মারিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। কতো বড় অমানবিক দৈন্যতার শিকার মানুষ! ভাবলে বিস্ময়ের সীমা থাকে না! মানুষের মাথায় এতটুকু বোধ কাজ করে না, সব কিছু ছাড়িয়ে আমরা মানুষ। ধর্ম আল্লা ভগবান ঈশ্বর যদি থেকে থাকেন তবে তিনি অন্যকে নিন্দা করার, হত্যা করার, ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠার শিক্ষাটা অন্তত দেওয়ার কথা না।
আজ যেসকল হিন্দু পরিবারকে দেখছেন দেশ ত্যাগের রাস্তা ধরেছে। এরকমভাবেই ৪৭ এর পর থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ হিন্দু দেশ ছাড়ার এই পথ পাড়ি দিয়েছে। তাদের সবারই অন্তরের গহীনে নাসিরনগরের মত শত নগরীর ক্ষত জড়িত। ৩০০ পরিবারের আগুন বড় বলে আজ তাপটা গায়ে লেগেছে। এক দুই তিন করে কতো তিন লক্ষ, তিন কোটি পরিবার এভাবেই দেশছাড়া হয়েছে। আমরা সেগুলো কখনোই দেখেও দেখিনি, তাদের পরিবারের কান্নার বন্যায় এখনো বঙ্গের নদী প্লাবিত হয়। আমরা যারা মুসলিম পরিবারে জন্মেছি তাদের কখনো বুঝার সাধ্য নেই আপন প্রিয় প্রতিবেশির অত্যাচারে নিষ্পেষিত হয়ে ভিটেমাটি ছাড়া কতোটা অপমানের, কতোটা লজ্জার, কতোটা দুঃখের, আর কতোটাই বা যন্ত্রণার!
দোল চেয়ারে বসলেই
ঘুম চলে আসে না।
রাত্রি বাড়লে চেনা ঘুমেরা
ধর্ষক প্রেমিকের মত
চুমুর ছলে ধর্ষণ সেরে,
ভোর হওয়ার আগেই
নিজের অস্তিত্ব ও উপস্থিতিকে
আত্মবিশ্বাসের সাথে অস্বীকার করে।
ই বিষণ্ণ, ক্লান্ত, আর অবসন্ন ভিনদেশী রাত্রিতে,
বহু বছরের সঞ্চিত শীতের আভরণ খুলে, অসীমের আঁধার ভেঙ্গে
হাড়ভেদী আলো আর উত্তাপ ছড়ায়ে;
হৃদয়ের মাটিতে বসন্ত আসে।
ক্ষণিক হাসিতে, ক্ষণিক কথায় আর ক্ষণিক আশ্বাসে-
মনের আকাশে যখন তখন ঝাঁকেঝাঁকে সারস পাখি ডানা ঝাঁপটায়!
বিয়ার পানের অভ্যাসটা নতুন। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি এই অভ্যাসটা আমার সাথে সাথে রয়ে যাবে অনেকদিন। বিভিন্ন ব্র্যান্ড ছাঁকা শেষে একটাতে থিতু হবো হয়তো। বরফ শীতল বিয়ারের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে বইয়ের পাতা উল্টাতে বেশ লাগে। আমার প্রাগৈতিহাসিক আধুনিক এন্ড্রয়েড ফোনের বাতিটা আর জ্বলে না অনেকদিন। এটা ঠিক করাতে যে টাকা ম্যাকানিক দাবী করেছে সেই টাকা দিয়ে আরেকটা ভাল মডেলের এন্ড্রয়েড মোবাইল কেনা যাবে। নতুন কোন ফোন কেনার তাড়া অনুভব করছি না ভেতর থেকেই। কথা বলার জন্য একটা ফোন আছে, কালে ভদ্রে রিং বেজে উঠে, আর না হলে আমিই রিং বাজাই। সপ্তাহে চারদিন কালিজিরা বেচা ছাড়া দিন রাতের বেশিরভাগ সময় ঘুমিয়ে কাটাই। যেন কয়েক শতাব্দীর ঘুম নিয়ে পুনর্জন্ম ঘটেছে আমার।
খুব অল্প সময়ের জন্য ফেবুতে এলে ছাইয়ে চাপা পরা পুরনো আগুনে হাত পোড়ানোর জ্বালার মত সমস্ত গায়ের চামড়া খসখস করে। ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা, অনুভূতিরা যেন সূচের খোঁচায় প্রাণ ক্ষতবিক্ষত করে তুলে, হাঁপিয়ে উঠি। অস্থির সময়, অসহ্য অসহায় নৈতিকতা! তবুও এফ বি থেকে বের হতে ইচ্ছে করে না। নেশার করা মাতালের মত মাথা ঝিম ঝিম করতে থাকে। এরপর আমার ক্লান্তি, হতাশা আর দৈন্যতার সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছানো এক প্রাণের আহ্বানে আবার ঘুমাতে যাই। মেয়ে হয়ে জন্মানোর কৃপা সরূপ পুরুষদের আহ্বান আরেক দফা সামনে এগিয়েছে। এখানে বিদেশীরা ডাকে প্রেমের জন্য নয়, এরা ডাকে জৈবিক তাড়নায় বিছানায়। বেশ কয়েকজনকে বলেছি আমার প্রেমিক বা স্বামী আছে দেশে; তবুও তারা নির্লজ্জের মত অবিশ্বাস করে। বলেই বসে- প্রেমিক থাকলে সমস্যা কি, আমরা থাকি একসাথে, তোর প্রেমিক এলে আলাদা হয়ে যাবো। কি জানি আমার চেহারা দেখে হয়তো মনে হয় আমি প্রেম ট্রেম করতে পারি না। এদেরকে কেমনে বুঝাই প্রেম ছাড়া শরীর উপভোগ করতে পারলে এতদিনে কয়েকটা বাচ্চার মা হওয়ার মত সৌভাগ্য অর্জন করতে পারতাম।
তাছাড়া অতীতের চরিত্রহীনতা বা সুচরিত্রের শীর্ষে পৌঁছানো নিঃসঙ্গ প্রেমিকেরাও ছুঁতে পারে না আমার মনের কোন কোণ। খুব দুঃসময়ের পাশে থাকা এক বন্ধুর সঙ্গ ছাড়া আমার সমস্ত অন্তরাত্মা জুড়ে আছে ঝর্ণার মত ঠাণ্ডা শীতল এক কণ্ঠস্বর, আর দ্যুতিতে ভরপুর দুটি উজ্জ্বল চকচকে চোখ, যা কিনা আমার ভেতর বাহির তোলপাড় করে ভুলিয়ে দেয় ভাল মন্দ বিচারের বোধবুদ্ধি এবং দিন তারিখ সনসহ স্বার্থ হিসেবের সময়জ্ঞান।
স্বল্প পোশাক যদি আধুনিকতা হয় তাহলে পশুরা সবচেয়ে বেশি আধুনিক।
কবিতা আবৃত্তি করলে যদি কোন ব্যক্তি সেক্যুলার হয় তাহলে শিমুল মোস্তফা সবচেয়ে বেশি সেক্যুলার।
খাবার খেয়ে বেঁচে থাকা যদি মানুষের কাজ হয় তাহলে জন্তু জানোয়ারেরা সবচেয়ে বেশি মানুষের মত বাঁচে।
সেক্স করলে যদি মানুষের বাচ্চার জন্ম হয় তাহলে কুকুর শকুরের সেক্সে সবচেয়ে বেশি মানুষের বাচ্চা জন্মে।
ধর্ষণ করলে যদি কেবল নারীর চরিত্র নষ্ট হয় তাহলে পুরুষেরা সবচেয়ে বেশি চরিত্রবান।
স্বল্প পোশাক যদি ধর্ষণের কারণ হয় তাহলে সবচেয়ে বেশি পুরুষের দ্বারা ধর্ষিত হয় পশুপাখি।
খঙ্কি মাগী বলে অসাম্প্রদায়িকতা *দাইলে যদি মানবতাবাদ হয় তাহলে সব খঙ্কি মাগী গমনকারী পুরুষেরাই মানবতাবাদী।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে মূত্র বিসর্জন যদি সভ্যতা হয় তাহলে কুকুরেরা সবচেয়ে বেশি সভ্য।